আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটিসহ আনুষঙ্গিক সুবিধার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
পরে বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত শেষে সড়কপথে খুলনা সার্কিট হাউসে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন করবেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একই সময়ে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোংলায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় এই সফর ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।
চার হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে চীনা ঋণ ও সরকারি অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড। পাশাপাশি যুক্ত হবে আধুনিক ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে চার লাখ টিইইউতে, যা বর্তমান সক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আধুনিক অবকাঠামো যুক্ত হলে পণ্য ওঠানামার গতি বাড়বে, কমবে জাহাজের অপেক্ষার সময় এবং উন্নত হবে বন্দরের সেবার মান। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকল্প ও উন্নয়ন) শেখ শওকত আলী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে। আধুনিক জেটি ও সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ার ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়বে এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দরের জেটি ও আধুনিক সরঞ্জামের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নতুন অবকাঠামো যুক্ত হলে পণ্য ওঠানামায় সময় সাশ্রয় হবে। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের ব্যবহারও বাড়বে।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনা ও মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর পরপর দুটি সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর খুলনা ও মোংলা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News