‘একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষিত হওয়া যায়, কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। তখন অর্জিত সব জ্ঞান-গরিমাই ম্লান হয়ে যায়। কেননা সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা—এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। এগুলোর ভিত্তি প্রোথিত হয় পারিবারিক মূল্যবোধ লালনপালন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে।’ বলেন সাংবাদিক নেতা।
সন্তানের এই বেড়ে ওঠার পথে অভিভাবকের কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, একটা ধারণা প্রচলিত আছে, পরিবার আদর্শ হলে সেই পরিবারের সন্তানও আদর্শ হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত একটি শিশু যখন হাত-পা নাড়তে শেখে, তখন থেকেই সে পরিবারের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। তাই বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হয়। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হয়। শিশুদের মন-মানসিকতা থাকে খুবই কোমল, তাই খুব সহজেই যেকোনো বিষয় তারা শিখে নিতে পারে। বড়দের কর্তব্য, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা, তাহলে সে সবকিছুই বাবা-মার সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে সে কখনো আদর্শহীন হবে না।
একইসঙ্গে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার জায়গাটি তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ঘরের পরিবেশ ভালো বলেই যে সন্তান সভ্য-ভদ্র ও আদর্শবান হবে—এমন ভেবে নিশ্চিন্ত বসে থাকা ঠিক নয়। তাই সন্তান বাইরে কাদের সঙ্গে মেশে, বন্ধুত্ব করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
শিক্ষা খাতের প্রতি সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু বাজেটের ১২ শতাংশের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না শিক্ষা খাতের বরাদ্দ। অন্যদিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দিক থেকেও শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ২ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।
‘জিডিপির হিসাবে এ অঞ্চলের দেশ ভুটান, নেপাল, আফগানিস্তান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কম। ইউনসেকোর চাওয়া ছিল জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির হিসাবে ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া। কিন্তু এর ধারেকাছেও যাওয়া যায়নি।’
দাউদ মিয়া বলেন, প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছাড়া যেমন শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়, তেমনি মানসম্পন্ন শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা তথা টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়।
‘শিক্ষা হলো শিশুর উর্বর মস্তিকে বীজ বপনের মতো। প্রক্রিয়াগতভাবে এখানে যা-ই বপন করা হবে, তাই ফলবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানসম্মত শিক্ষার ধারণা একটি ব্যাপক বিষয়। শিক্ষা আদান-প্রদান একটি জটিল প্রক্রিয়া, এর সংক্ষিপ্ত কোনো পদ্ধতি নেই। মানসম্মত শিক্ষার ধারণায় শিশুরা সিলেবাস শেষ করল কি-না সেটি মুখ্য বিষয় নয়, শিক্ষার্থীরা কী শিখল সেটি গুরুত্বপূর্ণ।’
দেশের শিক্ষার মান দিন দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে যেসব তথ্য উঠে আসছে তা খুবই উদ্বেগজনক। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের তথ্যে জানা গেল, বাংলাদেশের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সপ্তম শ্রেণির সমান। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্নাতক সনদ ফাউন্ডেশন কোর্সের সমান।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে বটে, কিন্তু মান বাড়েনি। শিক্ষার মান উন্নয়ন ছাড়া জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। সরকারের সঠিক উদ্যোগ ছাড়া এ থেকে মুক্তির উপায় নেই। সরকার যেন সঠিক কর্মপদ্ধতি হাতে নেয় তার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ডেস্ক নিউজ : দেশের ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।