
মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে—অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে রসিদে কম পরিমাণ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভুক্তভোগী রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে লতিবপুর এলাকার কামরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জমির খাজনা দিতে গেলে আল-আমিন মিয়া তার কাছে মোট ৩৩ হাজার ৭৫৯ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে দেখানো হয় মাত্র দুইটি পরিমাণ—একটি ১ হাজার ৫৬২ টাকা এবং আরেকটি ১ হাজার ৮৭৯ টাকা। বাকি টাকার হিসাব জানতে চাইলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তার।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানও। তিনি জানান, খাজনা বাবদ ৬ হাজার ৮৩ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে লেখা হয় মাত্র ১ হাজার ৮৩ টাকা। তার অভিযোগ, “ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, কিন্তু রসিদে খুব অল্প দেখান।”
স্থানীয়রা জানান, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা প্রদান—টাকা ছাড়া হয় না। অফিসে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অফিস এখন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিনের অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা এখন হাতে হাতে টাকা নেই না। সব কিছু অনলাইনে হয়। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”
তবে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আগে জানা ছিল না, এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে যেহেতু লিখিত অভিযোগ গেছে, নির্দেশ পেলেই তদন্ত শুরু হবে।”
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News