
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজা আক্তার আখি সরকার আবারও আলোচনায়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগকে পুনরায় সুসংগঠিত করার চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় তাঁর কর্মস্থল যমুনা ব্যাংকের অফিস থেকেই তিনি নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করছেন, যেখানে প্রতিনিয়ত গজারিয়ার বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়।
আখি সরকারের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। দলীয় প্রতীকে তিনি গজারিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ক্ষমতার শীর্ষে থাকা সময়ে তিনি নিজের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সময় উপজেলা পরিষদ নিতান্তই তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, টি.আর., কাবিখা, বিভিন্ন টেন্ডার—সবকিছুই তাঁর নির্দেশেই পরিচালিত হতো। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক সময় সাধারণ অবস্থায় থাকা আখি সরকার ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
গজারিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার ভবেরচর বাজারটিও ছিল তাঁর পরিবারের চাঁদাবাজির দখলে। তাঁর ভাই-বোন এবং বাবা আয়নাল মিলেই নাকি ওই বাজারকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন। শুধু বাজার নয়—সুপারবোর্ড, পলিক্যাবেলস, বসুন্ধরা গ্রুপসহ এলাকার বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বালুমহল থেকেও নিয়মিত মাসোহারা নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ ব্যবহার করে তিনি যমুনা ব্যাংকে চাকরিও নিশ্চিত করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গজারিয়া উপজেলার অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু আখি সরকার সেই সময়েও বহাল তবিয়তে থাকেন। অভিযোগ আছে, তিনি উপরমহলের একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ম্যানেজ করে নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রায় বছরখানেক নীরব থাকার পর সম্প্রতি আবারও তাঁকে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় অনেক নেতা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টায় নেমেছেন আখি সরকার।
গজারিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ছায়ায় থাকা আখি সরকারের এই নতুন কর্মকাণ্ডের পেছনে আসল লক্ষ্য কী? তদন্ত না হলে এসব অভিযোগের সত্যতা হয়তো জানা যাবে না, তবে স্থানীয়দের উদ্বেগ দিনদিন বাড়ছে।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News