
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার (৬/১১/২৫) পৌরসভায় হঠাৎ অভিযান চালিয়ে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও রেকর্ডপত্র জব্দ করে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের সময় দুদকের টিম পৌরসভার রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও প্যালাসাইডিং সংক্রান্ত কাজগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাউন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার কাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল। এসব কাজের অনুমোদন দেওয়া হয় তৎকালীন মেয়র মজিবুর রহমানের সময়েই। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাজগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের উপপরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, “ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে টেন্ডার পাওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠায় দুদকের ঢাকা অফিস থেকে নির্দেশ পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও প্যালাসাইডিংসহ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বেশ কিছু কাজের মান ও প্রক্রিয়া যাচাই করে রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হবে।”
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আইইউজিই প্রকল্পের চতুর্থ প্যাকেজের অধীনে ২০২৪ সালের এপ্রিলে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক, আনসার একাডেমি, পাশা গেট ও লালটেকিরসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে দরপত্র যাচাই না করেই ব্রাউন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে কাজ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করলে দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানে নেয়।
এর আগেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মজিবুর রহমানকে দুদক তলব করেছিল তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে। দুদক জানতে পারে, তার স্ত্রী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠদের নামে জমি, বাড়ি, দোকান, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে জবাব দিতে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মজিবুর রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি দুই মেয়াদে কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে তিনি ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরও হয়রানি করতেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শনিবার একাধিকবার কল দিয়েও সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পাঠানো এসএমএসেরও কোনো জবাব মেলেনি।
