ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অফিসে ঢুকে আব্দুল লতিফ (৩৩) নামে এক লাইনম্যানকে বেধড়ক পিটুনির খবর পাওয়া গেছে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাব-স্টেশন অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জামুর্কি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বৃহস্পতিবার লাইনম্যান আব্দুল লতিফ অফিসে কাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে লাইনম্যান আব্দুল লতিফের ওপর হামলা চালায় তারা। এতে তিনি আহত হন।
এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত আব্দুল লতিফকে উদ্ধার করে প্রথমে জামুর্কি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের অধীনে সব সাব-অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুরে গত কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিন রাত মিলে ৭-৮ ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। মিলকারখানায় উৎপাদন ঠেকেছে তলানিতে। লোডশেডিং কমানোর দাবিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন গ্রাহকরা। তবে লোডশেডিংয়ের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি-না কিংবা এই হামলার ঘটনায় কারা তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঁঠা নিয়ে অফিসে ও কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছে। আহত কর্মী আব্দুল লতিফকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই কর্মকর্তা।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা এবং কর্মী মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামালর জেরে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News