ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের সময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানে চক্রটির জিম্মিদশা থেকে ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি গোলাগুলি হয়। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অপহৃত ও পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা উভয়েই রয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অর্ধশতাধিক মানুষকে ওই গহিন পাহাড়ের গোপন আস্তানায় জড়ো করে জিম্মি রেখেছিল চক্রটি। ক্যাম্পের কুখ্যাত মো. আলম ও মো. সাদ্দাম ডাকাত এই সংঘবদ্ধ পাচার চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছিল। যৌথ বাহিনী আস্তানায় হানা দিলে অপরাধীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে, যার জবাবে যৌথ বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এ সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এস. সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুরো অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News