
বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রূপায়ণ গ্রুপকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি দুর্নীতি মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটিতে মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জন এবং রাজউকের বিভিন্ন স্তরের ৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দুদকের তদন্ত নম্বর অনুযায়ী এই মামলা ইতোমধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলশানসহ ঢাকার কয়েকটি অভিজাত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের নকশা অনুমোদন ও প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে রাজউকের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সহায়তা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম না মেনেই ভবনের অনুমোদন দেওয়া, কাগজপত্রে অসঙ্গতি রাখা এবং জলাভূমি ভরাটের মতো গুরুতর অনিয়মের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একই জমিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রেখে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এভাবে নেওয়া ঋণের পরিমাণ চার হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ প্রকল্পে ব্যবহার না করে বিভিন্ন পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে তদন্ত সংস্থা। জমি ও প্রকল্পসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদক জানিয়েছে, মামলার এজাহারে আসামিদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। মামলার বিষয়ে আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ (BFIU) এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করা হয়েছিল।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে কোনো ধরনের প্রভাব, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বা সম্পত্তি লুকানোর চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তদন্তের ব্যাপ্তি ও আইনি জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতেই বিস্তারিত শুনানি ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
