
বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর মিলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তিন খাতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত অন্তর্ভুক্ত। কমিশন বলেছে, এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের স্বার্থে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আগ্রাবাদ ও হালিশহর অফিসে দুদক অভিযান চালিয়েছে। এ সময় তারা বিভিন্ন টেন্ডার ও কার্যাদেশের রেকর্ড পরীক্ষা করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর টার্নওভার, ক্রেডিট লাইন, কাজের অভিজ্ঞতা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল সনদ, ম্যানুফ্যাকচারার অথরাইজেশন লেটার এবং ই‑জিপি কালো তালিকাভুক্তির তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকায় ঢাকা-মহাখালীতে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটি)-র কার্যালয়েও দুদকের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৯টি প্রকল্পের মধ্যে মোট ২,১১০ কোটি টাকার প্রায় অর্ধেক অংশে অনিয়মের ছাপ রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে কিছু প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং দায়িত্বশীলতার অভাবও দেখা গেছে।
স্বাস্থ্যখাতে, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদক অভিযান চালিয়েছে। তারা ছদ্মবেশে হাসপাতালের সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছে। অভিযানে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন, হাসপাতালের খাবারের মান ও পরিমাণে অসঙ্গতি রয়েছে, এবং স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রোগীদের সঙ্গে আলাপের পর এই অভিযোগগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযানে পাওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। কমিশন আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হবে।
