আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৩০-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অন্তত ২,৩৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সোমবার(২০ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। যা ১৫ মে ডিআরসিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর একটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল,গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাস আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
ডব্লিউএইচও-র প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে ১০ মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। অথচ এবার ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র দুই মাস। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।
টেডরস আরও বলেন, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা ইবোলার তৃতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে এটি আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়েছে। ডিআরসিতে ইবোলার ১৭তম এই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম শনাক্ত হয় খনিজ-সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইতুরিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর। এলাকাটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ও আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার সংক্রমণ এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় শনাক্ত হয়েছে। টেডরস জানান, উগান্ডা এখন ‘ভাইরাস-মুক্ত’ হওয়ার পথে থাকলেও ডিআরসিতে ইবোলা নজিরবিহীন হারে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইতুরিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন এবং বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরোধ করেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দেওয়া সত্ত্বেও তারা কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা ক্ষতিপূরণ পাননি।
টেডরস উল্লেখ করেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০শতাংশেরও বেশি রোগী ‘পরিচিত বা শনাক্তকৃত সংস্পর্শের তালিকার বাইরে’ পাওয়া যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় সংক্রমণের উৎস বা শৃঙ্খলগুলো এখনো শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় রোগীদের সেবা ও সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও সুসংহত হচ্ছে।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News