আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপালের আকস্মিক বন্যার পাঁচ দিন পরও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ মেলেনি। স্বজনদের অপেক্ষা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। উদ্ধারকাজে দেরি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
নুওয়াকোটের আপার ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা পড়েছেন জিবলাল অধিকারী। বুধবার সকালে কাজে ঢোকার আগে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ নেই।
ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮৯৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
আপার ত্রিশূলি ৩এ প্রকল্পে বন্যার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজ আরও আগেই শুরু করা প্রয়োজন ছিল।
শনিবার নেপালের অনুরোধে চীন থেকে নয়জন বিশেষজ্ঞ টানেল উদ্ধারকারী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর কাজ শুরু করেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বাসনেত জানান, ড্রিলিং মেশিন, খননযন্ত্র ও হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছানো হয়েছে। সেখানে প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি টানেলের ভেতরে পানি পাওয়া যায়।
টানেলের ওপরের অংশ ভেদ করে উদ্ধারকারীরা ভেতরে প্রবেশ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বড় সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রস্তুতিও চলছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা শ্রমিকদের কাছে অক্সিজেন ও পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৩৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজদের কতজন টানেলের ভেতরে আটকা এবং কতজন বন্যা বা ভূমিধসে নিখোঁজ হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বজনেরা বলছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতরে পৌঁছে প্রকৃত পরিস্থিতি না জানা পর্যন্ত তারা আশা ছাড়বেন না।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News