
বিশেষ প্রতিবেদকঃ মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বহুদিন ধরে নিজেকে হাকিম পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন আব্দুল কাদের। বাহিরে থেকে দেখতে তার চেম্বারটা খুব জমজমাট মনে হলেও, ভেতরে লুকিয়ে আছে নানা অভিযোগ আর প্রতারণার অভিযোগ। রোগীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নানাভাবে টাকা আদায় করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তার রয়েছে দামি গাড়ি, বাড়ি ও বিপুল সম্পদ, আর এসবের পেছনে কত মানুষের কষ্টের টাকা লুকানো আছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।
হাকিম আব্দুল কাদেরের চেম্বারে সব সময়ই ঘিরে থাকে বিশজনেরও বেশি দালালের একটি বড় দল। এই দালালরা কথার জাদু দেখিয়ে রোগীদের তার কাছে নিয়ে আসে। কমিশনের লোভে তারা রোগীদের ভুল তথ্য দেয়, ভয় দেখায়, এমনকি চিকিৎসার নাম করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেয়। রোগীরা যখন ভরসা করে তার কাছে যান, তখন শুরু হয় টাকা নেওয়ার পালা।
তিনি দাবি করেন যে লিভার, জন্ডিস, হাঁপানি, বাতসহ চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্টিক, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, নাকের পলিপাস—প্রায় সব ধরনের রোগই তিনি নাকি সারাতে পারেন। এমনকি তিনি বলেন পৃথিবীর সব রোগের চিকিৎসা তার কাছে আছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক রোগী তার চিকিৎসা নিতে নিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা ডাক্তার দেখানোর পর সুস্থ হন। তাদের অভিযোগ—এমন ভণ্ড চিকিৎসককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
জন্ডিসের রোগীদের তিনি ‘ডাব পরে’ নামের একটি পদ্ধতি দেখান। রোগীরা বলে, টেবিলের নিচে থেকে তিনি কিছু একটা দেন, তারা জানেন না সেটা কী। কাদের দাবি করেন তিনি খাবার সোডা দেন, যা চিকিৎসকদের মতে শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। ডাব বিক্রির মাধ্যমেই তিনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও গুরুতর বিষয় হলো—তিনি বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া নিজে ট্যাবলেট বানান, ওষুধ তৈরি করেন এবং এসব রোগীদের খেতে দেন। এটি আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। অথচ তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ বোর্ড অফ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক”-এর নিবন্ধন বহি নং ২১২৫ দেখিয়ে পরিচয় দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এ ধরনের কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাদের নেই।
তার কাছে লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার নাকি আয়ুর্বেদিক কোম্পানি আছে, কিন্তু লাইসেন্স নম্বর বলতে পারেন না। পরে চাপ দিলে বলেন ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স আছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো কাগজও দেখাতে পারেন না। বরং কথার মারপ্যাঁচে রোগীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বহু বছর ধরে কবিরাজি করছেন এবং তার হাত খুবই “যশস্বী”।
অভিযোগকারীরা বলেন—তার কোনো বৈধ সনদ, প্রশিক্ষণ বা চিকিৎসা করার যোগ্যতা নেই। অথচ তিনি বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসা করার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা নেন। অনেক রোগী ধীরে ধীরে মারাত্মক অবস্থায় চলে যান, অথচ তিনি তা বুঝেও কিছু করেন না। তারা মনে করেন, এমন বিপজ্জনক প্রতারণা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
