মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কায় গত তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম বাড়তির দিকে।
বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও এক ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।
এরআগে মঙ্গলবার সকালেই তেল বিক্রির বাজারে এই দাম বাড়ার প্রভাব চোখে পড়ে। লেনদেনের একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০.০৭ ডলারে। এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১০.৭০ ডলারে উঠেছিল, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪.০৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী আবারও সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বাড়লে তেলের সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি চাপের মুখে থাকতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News