
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রথম দুই পর্ব প্রকাশের পর পুরো দপ্তরে আলোচনার ঝড় ওঠে। পাঠকদের অনুরোধে প্রতিবেদক আরও গভীর অনুসন্ধানে নেমে এই পর্বে নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন—যা পুরো এলজিইডি জুড়েই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী নেতা সালমান এফ. রহমানের ‘কথিত ছেলে’ পরিচয় ব্যবহার করে ফিরোজ আলম ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে নিজের পছন্দের পদে পোস্টিং নেন। এতে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমনকি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ক্ষুব্ধ ঠিকাদার ও কর্মচারীরা তাকে অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বলেও জানা গেছে। অভিযোগ—কাজ না করিয়ে ঠিকাদারদের বিল পাস করিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নিতেন তিনি।
তদন্তে উঠে এসেছে মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্পের তথ্য। “ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় এই কাজটি পায় মেসার্স ইফাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার ডালিয়া ইমাম; ঠিকানা—৮৪২, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা। চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২ মে ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ আগস্ট ২০২৫।
কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত কাজ শুরুই হয়নি। তবুও ঠিকাদারকে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে এলজিইডির ভেতরের একাধিক সূত্র। বর্তমানে ঠিকাদার ডালিয়া ইমাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানা যায়।
এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিককে জানান—এটি প্রথম ঘটনা নয়। ফিরোজ আলম নাকি কাজ না করিয়েই একাধিক ঠিকাদারকে বিল দিয়েছেন। পরে অন্য কর্মকর্তারা বিপদ এড়াতে নানা ঝামেলা সামলাতেন। তার ভাষায়, “ওর এসব কাজ ধামাচাপা না দিলে এখন পর্যন্ত বড় বিপদে পড়ত।”
এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিরোজ আলম তালুকদার দাবি করেন, “মানিকনগর স্কুল প্রকল্পে শুধু joist–এর বিল দেওয়া হয়েছে, অগ্রীম কোনো বিল নয়।” তবে প্রকল্পে ‘joist’ দেওয়ার মতো কাজ আদৌ হয়েছে কি না—তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপরের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে বলে তিনি মত দেন।
এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলজিইডি অফিসের ভেতরে নতুন করে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি বড় ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করছে।
