
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একদিনে তিনটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে—মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুদকের তিনটি আলাদা দপ্তর থেকে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এসব অভিযান চালিয়েছে।
মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল তদন্তে নামে। টিম জানতে পারে—বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল মেট্রোরেল লাইন ও ১২টি পাতাল স্টেশন তৈরি হচ্ছে এই রুটে। পাশাপাশি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল পথ ও ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন নিয়ে পূর্বাচল রুটের কাজও চলছে। সব মিলিয়ে মোট ৩১.২৪১ কিলোমিটার লম্বা এমআরটি লাইন–১ নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পুরো প্রকল্পটি ১২টি কনট্রাক্ট প্যাকেজে ভাগ করে কাজ চলছে।
এর মধ্যে CP–01 প্যাকেজের আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৯০ একর জমির ডিপো উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের আগস্টে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগেই কাজ শেষ করেছে বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানকালে দুদক দল স্যান্ড এমব্যাংকমেন্ট ও ফিলিং–সংক্রান্ত কাজে কোনো অনিয়ম আছে কিনা তা যাচাই করতে ডিপো এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চায়। নথি হাতে পাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে পুরো প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হন—এমন অভিযোগ পাওয়ায় দুদকের কুড়িগ্রাম টিম ছদ্মবেশে সেখানে অভিযান চালায়। টিম হাসপাতালে গিয়ে দেখে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন, অ্যাম্বুলেন্সের লগবুকে অনিয়ম, প্যাথলজি বিভাগে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকটি ওয়াশরুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ১০–১২ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকেও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে একজন প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে তিনি নিয়ম ভেঙে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখানে ঘুষ নিয়ে রুট পারমিট দেওয়া, সেবা পেতে ভোগান্তি এবং কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক টিম হাজির হয়। টিম দেখে, ২০২৩ সালের আগস্টে বিআরটিএ ১৭৩টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করেছে। যাত্রী–পণ্য পরিবহন কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী ৫৭১টি থ্রি–হুইলারের মধ্যে ৫১১টির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এই বিষয়ে এর আগেও একটি মামলা করা হয়েছিল, যার তদন্ত এখনো চলছে। দুদক টিম সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করে। সব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে পুরো প্রতিবেদন কমিশনকে জানানো হবে।
.
Copyright © 2025 All rights reserved Dhaka News