
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার দেবী মা সরস্বতীর পবিত্র পূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণ এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট অতিক্রম করছে। এই সংকট উত্তরণে জ্ঞান, যুক্তিবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত জরুরি। মা সরস্বতী সেই আলোকিত চেতনার প্রতীক, যা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে সত্য ও বিবেকের পথ দেখায়।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষাকে মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত না হলে জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয় না।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রশ্নে দলের প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সেই দর্শন থেকেই তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের নেতৃত্বেই ঢাকেশ্বরী মন্দির জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা লাভ করে; পুরোহিত ও শ্মশান ঠাকুরদের জন্য পৌরসভা কর্তৃক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়; হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে কালী পূজায় সরকারি ছুটি ঘোষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানি বিল মওকুফের মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশে পরিণত করেছিলেন।
জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু এরশাদের সেই মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি দেশবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বলেন, মা সরস্বতীর আশীর্বাদে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র।
