
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর নিকুঞ্জে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অজানা উৎসের সম্পদ ঘিরে আলোচনায় এসেছেন বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা সাঞ্জিদা আক্তার। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের অভিযানে জানা যায়, তার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকা, পাশাপাশি ৪৫ লাখ টাকার এফডিআর এবং ২৬ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব সম্পদের মূল উৎস হিসেবে উঠে এসেছে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান এর নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংবাদ উপস্থাপিকা সাঞ্জিদাকে কোটি টাকার উপহার দিয়েছেন। সম্পদের উৎস যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখছে দুদক।
অভিযানের পর দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সাঞ্জিদার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের ৪০ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, “এই সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই দিনে দুদক আরও কয়েকটি দুর্নীতির ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার পরিবর্তে এসব এজেন্সি শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রুজু হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও আরও ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ঋণের নামে প্রায় ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের মহাপরিচালক জানান, “যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, সেগুলোর প্রমাণ মিললেই মামলা হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ ও অবৈধ অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও চলছে।”
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে—অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দুদক কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
