
ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও কানাডা। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টায় হিউস্টনের রিলায়ান্ট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ আট, আর হেরে গেলেই শেষ হবে বিশ্বকাপ অভিযান। তবে দুইদলই দুর্দান্ত খেলার ছন্দে আছে।
গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপ যেন পা রেখেছে মহাযুদ্ধে। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে মুখোমুখি মরক্কো ও কানাডা। রাউন্ড অব ৩২-এ স্বাগতিক কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে এসেছে। অন্যদিকে মরক্কো টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টিকিট কেটেছে শেষ ষোলোর।
কানাডার জন্য শেষ ষোলো বিশেষ কিছুই। তারা ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেললেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২২ সালেও বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট জিতে শেষ ষোলোয় উঠে তারা গোটা দেশের ফুটবল মানচিত্র বদলে দিয়েছে। তৃতীয় সারির দল থেকে এক লাফে তারা অভিজাত ক্লাবে চলে এসেছে।
নকআউট পর্বে একটা ম্যাচ জয় করার জন্য কোনো দলকে যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হয়। কানাডা সেই অপেক্ষাটা ঘুচিয়েছে অল্পতেই। স্বাগতিক হওয়ার মর্যাদাও রক্ষা করেছে তারা। অন্যদিকে মরক্কো তো লিখে চলেছে রূপকথা। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেয়ার পর তাদের বিস্ময়করযাত্রা চলছেই। চলতি আসরেও ডার্ক হর্স হিসেবেই দেখা হচ্ছে মরক্কোকে।
আফ্রিকান নেশন্স কাপজয়ী এই দলের পক্ষে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব! চার বছরে বেশ শক্তি জমা করেছে তারা। টানা ৩২টির বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামছে মরক্কো।
এবার বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বোনোর সাথে ইসমাইল সাইবারিও নিজেকে তারকার কাতারে নিয়ে গেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে।
অতীতের পরিসংখ্যানও মরক্কোর পক্ষে। দু’দল এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে তিনবার জিতেছে মরক্কো, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কানাডা এখনো মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। দু’দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেবার হাকিম জিয়েচ ও ইউসুফ আন-নেসিরির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল মরক্কো।
অবশ্য ইতিহাস নয়, বর্তমান ছন্দই কানাডার সবচেয়ে বড় ভরসা। নিজেদের সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে তারা। গতিময় আক্রমণ, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত ট্রানজিশন এই দলের মূল শক্তি। তবে ইতিহাস আর সম্ভাবনা যাইহোক; নকআউট পর্বের ম্যাচে ভুলের সুযোগ নেই। একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই হিউস্টনে সতর্ক কিন্তু রোমাঞ্চকর একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
