
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তিন সহকারী প্রকৌশলী—রকিবুল হাসান, মেহেদী রায়হান নাদিম এবং হাসানুর রেজাকে—রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ‘অথরাইজড অফিসার’ হিসেবে প্রেষণে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ পদায়ন ঘিরে রাজউকের ভেতরে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের দায়িত্ব সাধারণত পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের কাউকে দেওয়া হয়। অথচ যাদের পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী।
রাজউকের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, অথরাইজড অফিসার হতে হলে কমপক্ষে পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) বা সহকারী প্রধান স্থপতি, উপস্থপতি, উপনগর পরিকল্পনাবিদ হতে হয়। নিচের পদের কেউ এ দায়িত্ব নিতে পারেন না। অথচ এই তিনজনের পদবি সহকারী প্রকৌশলী, যা নিয়মের সঙ্গেই যায় না। অভিযোগ আরও আছে, রাজউকের নিজস্ব ১১ জন অথরাইজড অফিসার থাকলেও তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাদের পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত থেকে নতুন লোক আনা হচ্ছে—যা স্বাভাবিক নয় এবং প্রশ্ন তোলে পদায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে।
আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৯ সালে দুই সহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে রাজউকে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তখন যোগ্যতার অভাবে তারা রাজউকে যোগ দিতে পারেননি, এবং পরে মন্ত্রণালয় সেই আদেশ বাতিল করে। এবারও অনেকে মনে করছেন, একই নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত আবার পুনরাবৃত্তি হল।
এই প্রেষণ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসমিন ফারহানা। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই তিনজন যদিও সহকারী প্রকৌশলী, তবে তারা গণপূর্তে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব সামলেছেন। আর তারা রাজউকে গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বেতন পাবেন না—সহকারী প্রকৌশলীর বেতনই পাবেন। তাঁর মতে, তাই এটিকে বড় ধরনের নিয়মভঙ্গ বলা যাবে না। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে বিষয়টিতে বিতর্কের জায়গা আছে।
অন্যদিকে রাজউকের বোর্ড সদস্য (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিনের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দেশের বাইরে আছেন এবং এখনো এ ধরনের কোনো আদেশের খবর পাননি। দেশে ফিরে অফিসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
সব মিলিয়ে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো নিয়ে রাজউকের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রশ্ন আর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
