
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চক্রের অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি থেকে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের জিগরি দোস্ত আতিকুল ইসলাম কে ওএসডি করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেলেন হারুন আর রশিদ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে যে, সংস্কারের নামে উপদেষ্টা আদিলুরের চোখে ধুলা দিয়ে রাজশাহী থেকে নারায়ণগঞ্জে ফ্যাসিবাদের পদায়ন, আতিক সিন্ডিকেটের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলেন হারুন — টেন্ডারবাজি, অনিয়ম আর ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্তে এ যেনো নতুন চকচকে বাহারি মোড়কে পুরোনো শরাব।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের ঢেউ শহরজুড়ে বইলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরে চলছে উল্টো খেলা। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার আঁকড়ে রেখেছিলেন পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেট, আর তারই ক্রীড়নক হয়ে রাজশাহী থেকে নারায়ণগঞ্জে পদায়ন পেয়েছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি হারুন অর রশিদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম শহর জুড়ে চলছে, যে প্রক্রিয়ায় মনে হচ্ছে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা আবার দোলা শুরু করেছে। তারা যেন ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয়—নতুন মুখাবয়বে, পুরনো খেলা আবারও শুরু করতে।
সর্ব মহলে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে আছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। গনপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার, যিনি সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তিন বছর ধরে একইপদে ছিলেন, তিনি এখনো তার পুরনো সিন্ডিকেটকে আঁকড়ে রেখেছেন। সবাই ভেবেছিল, অন্তর্বর্তী সরকার তার কিছু খড়খড়ি নিয়ে তাকে সরাবে। কিন্তু আচ্ছা! তারা তার দক্ষতা ও বিশ্বাসের কথা মনে রেখেছে, আর শুরুর গল্পটা এখনও উড়ছে—বদলির মাধ্যমে নাটকের ভূমিকা নেবার কাজ চলছে।
আওয়ামীপন্থীদের নজিরবিহিন পুনর্বাসন ও পদায়ন : প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার এর বিরুদ্ধে আছে আওয়ামীপন্থীদের পুনর্বাসন ও পদায়নের আরো ব্যাপক অভিযোগ।
গত ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের নতুত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সংস্কারের কথা বলে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের পদায়ন করছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার (বর্তমানে ডিমোশনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী)। পুনর্বাসন করছেন আওয়ামী দুর্দিনে পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের। একারণে ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ।
গত ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময় তার নানা অপকর্মের হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম আতিক সিন্ডিকেটের সদস্যদের অপসারেণের ব্যাপক দাবি উঠলে, দুয়েকজনকে লোক দেখানো সরিয়ে দিলেও সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চক্রের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আহসান হাবিব ও হারুন অর রশিদ সহ অন্যান্যদেরকে আরো বড় দায়িত্ব পদায়ন করা হয়েছে। আর আতিক তো তার আগের জায়গায় রয়েছে বহাল তবিয়তে।
বিশেষ করে আতিক এর নিজ জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ এর ছেলে হারুন অর রশিদ কে জুলাই অভ্যুত্থান এর পরে কথিত বৈষম্যের শিকার এর তকমা লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ পদায়ন করা হয়েছে মূলত তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Adroit consultants and Engineers এর নামে টাকা কামানোর জন্য। আর হারুন তাই কখনো নিয়মে আবার কখনো অনিয়মে ওই প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আসছেন কোটি কোটি টাকার কাজ।
প্রাপ্ত তথ্যমতে অক্টোবর ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি গত ১১ মাসে হারুন একাই আতিক এর অই লাইসেন্সের একক নামে ১৯ টি কাজের মাধ্যমে ১.৭১ কোটি টাকার রিপেয়ার মেরামত কাজ, ACE-AT JV এর নামে ৪.৫ কোটি টাকার একটি কাজ সহ The Engineers and Architects এর নামে ৪.৪৪ কোটি টাকার একটি কাজ। মোট ১০.৬৬ কোটি টাকার ২১ টি কাজ।
হারুন এখন আতিক সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অন্যতম অর্থ সংগ্রাহক। দূর্ণীতি করতে করতে তাদের মাথা ঠিক থাকেনা। এমনকি গত ১০ মার্চ ২০২৫ এ হারুন ৫ টি LTM এবং ১ টি OTM এর মাধ্যমে মোট ৬টি কাজের দরপত্র আহবান করে। এবং মজার বিষয় ৬টি কাজের মধ্যে ৬টিই পেয়েছে বড়ভাই আতিক এর কোম্পানি Adroit এবং ৬টি কাজেরই NOA দেয়া হয়েছে ২১ এপ্রিল ২০২৫ এ। এগুলোর টেন্ডার আইডি ১০৮৫৩৬৭ থেকে ১০৮৫৩৭১ পর্যন্ত ৫ টি এবং টেন্ডার আইডি ১০৮৫৭৮১। দরপত্র আইডি নাম্বার 1065001, 1063684, 1063680, 1055310, 1057127, 1042296, 1042341, 1042306 এর মাধ্যমে ৭৬.১৭ লক্ষ্য টাকার ৮ টি কাজ মাত্র দেড় মাসে অনিয়ম করে আতিক এর ফার্ম Adroit কে দিয়েছেন।
এর মধ্যে 1042296, 1042341, 1042306 এই তিনটি কাজ ২৬ নভেম্বর ২০২৪ এ LTM পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হলেও সিডিউল বিক্রয়, ড্রপিং ও রেসপন্সিভ মাত্র একটিই টেন্ডার।
এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর OTM পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা আইডি নং 1057127 নং এও সিংগেল ড্রপিং কে রেসপন্সিভ করে এড্রোয়েট কে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়েছে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিশ্বস্ত সূত্রে খোজ নিয়ে জানা গেছে আতিক শুধু সেই নির্বাহী প্রকৌশলীদেরই নারায়ণগঞ্জ পদায়ন করায় যে তার এড্রোয়েট কে অনিয়ম করে কাজ দিতে রাজি হয়।
বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতিকে রাজশাহী থেকে আনা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে : শুরুটা করা যাক কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। ৯ ডিসেম্বর ২০২০ এ Faisal Ahmed Tamal গণপূর্ত অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন “শুভ জন্মদিন, প্রিয় হারুন অর রশিদ ভাই, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেন, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, বাগেরহাট জেলা। সাবেক সফল সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েট শাখা।” একইদিন Mehedi Hasan Eed লিখেছেন “শুভ জন্মদিন, হারুন অর রশিদ ভাই, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, বাগেরহাট জেলা। সাবেক সফল সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েট শাখা।” ৯ ডিসেম্বর ২০২২ এ Anm Abdullah Hil Baky লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন প্রিয় ভাই, সাবেক ছাত্রনেতা হারুন অর রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজশাহী পি. ডব্লিউ. ডিভিশন-১, রাজশাহী, শুভ হোক আপনার আগামীর দিনগুলো, ভালবাসা অবিচল ভাই। ট্রিট টা পাওনা রইলো” জবাবে জনাব হারুন অর রশিদ লিখেছেন Thank you.” ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ এ মোঃ পলাশ আলী লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন প্রিয় ভাই, সাবেক ছাত্রনেতা হারুন অর রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজশাহী পি. ডব্লিউ, ডিভিশন-১, রাজশাহী। শুভ হোক আপনার আগামীর দিনগুলো, ভালবাসা অবিচল ভাই।”
৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২ Faisal Haque সহ গোমস্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রাজশাহী গণপূর্ত এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ এর অফিসে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “ছাত্রলীগের অগ্রজ, গনপূর্ত বিভাগ-১, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রদ্ধেয় হারুন অর রশিদ ভাই এর সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গোমস্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।” ৮ই জানুয়ারী ২০২৪ এর ডামি ভোটে চাপাইনবাবগঞ্জ ১ (শিবগঞ্জ) আসনে ডা: শিমুল জেতার পর VP Sohel ও হারুন অর রশিদ ডা: শিমুল কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ” অভিনন্দন শিমুল ভাই, আমাদের পরিশ্রম বিফলে যায় নাই। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা মাহফুজ ভাই।” একই ব্যাক্তি ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ এ ডামি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিনিয়ার আনারুল ইসলাম কে ফুলের মালা পরিয়ে লিখেছেন, “নৌকার বিজয়ের পরবর্তী সময় ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আনারুল ইসলাম চাচা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ভাই, জননেতা মাহফুজ ভাই সহ আমরা।”
নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন আর রশিদ চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আসতাউর রহমানের ছেলে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ধূর্তদের একজন।
আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী হারুন ছিলেন অনিয়মের ওস্তাদ। রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ ১ এ থাকাকালীন নিজ অফিসে কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ৯ জুন ২০২৪ এ দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, দরপত্র ডাকার আগেই রাজশাহীতে গণপূর্ত বিভাগের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষের দিকে এসে আহ্বান করা হয়েছে দরপত্র। ঠিকাদার সঞ্জয় কুমার বলেছিলেন যে, তাঁরা ঝুঁকি নিয়েই দরপত্র আহ্বানের আগে কাজটা শুরু করেছিলেন।
হারুন অর রশিদ তখন বলেছিলেন, জুন ক্লোজিংয়ের দোহাই দিয়ে তাড়াতাড়ি শুরু করতে গিয়ে চুক্তিপত্র সই হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল গোফফার বলেছিলেন, এটি একটি অনিয়ম।
ঠিকাদার, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি স্বীকার করে নেয়ার পরেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজারবাগ গণপূর্ত উপ বিভাগ ২ এ কর্মরত ছিলেন। একে তো আতিক এর নিজ জেলা চাপাইনবয়াবগঞ্জে বাড়ি তার উপর শামীম আখতার, আতিক, আহসান হাবিব সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তাই গত ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হবার পর ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে অনেকটা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে অক্টোবর, ২০২৪ এ রাজশাহী থেকে নারায়ণগঞ্জ পদায়ন নিতে এই বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতির কোনো সমস্যাই হয়নি।
হারুন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের চলমান সদস্য। ২৮ শে জুলাই, ২০২৪ এ কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে যে বংগবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যে বিবৃতি প্রদান করে সেখানে এই হারুন অর রশিদও স্বাক্ষর প্রদান করেন।
আইইবি-২০২২-২৩এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) ব্যানারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের মেম্বার এবং ঢাকা সেন্টারের কাউন্সিল মেম্বার পদে নির্বাচন করেছিলেন।
চাকরিজীবনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন থাকার পর এবার এই ফ্যাসিবাদের দোসরকে আরেকটি বড় বিভাগ নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ এ পদায়ন করা হয়েছিলো জুলাই অভ্যুত্থান এর পরে অক্টোবর, ২০২৪ এ।
বুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতিকে যদি জুলাই অভ্যুত্থান এর পরে বৈষম্যের শিকারের তকমা লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ পদায়ন করা হয় খোদ আদিলুর রহমান এর চোখের সামনে তাহলে তা কিসের ইংগিত বহন করে তা সবারই জানা। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার যেনো বেছে বেছে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহচরদের আগলে রেখে তার প্রিয়ভাজন আতিক সিন্ডিকেটের লুটপাট চালিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর ছিলেন।
নতুবা গত বছরের ৫ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান এর পরে চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের সবাইকে দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়নই বলে দেয় সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার (বর্তমানে ডিমোশনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী) খুব সম্ভবত ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা যেন মাস খানেক আগেই ফিরে আসবেন। এজন্য তার ফেরার রাস্তা নিস্কন্টক করতে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে আওয়ামী বিরোধীদের তিনি রেখেছিলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আর সবই হচ্ছিল অর্ন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এর চোখের সামনে। ভাবসাব এমন, আতিকের টেন্ডারবাজি সিন্ডিকেট এর সদস্যরা যেন নতুন চকচকে বাহারি মোড়কে সেই পুরাতন শরাব।
সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও নারায়ণগঞ্জ ভুইগড়ের ভন্ড পীর শামীম আখতার এবং তার সিন্ডিকেটের প্রধানতম শক্তিশালী অস্ত্র শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ ৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম (বর্তমানে ওএসডি) আতিক টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের নেশায় অস্থির হয়ে গেছেন।
জানা গেছে, ১১০০ কোটি টাকার রাংগামাটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডারবাজি করতেই প্রাণপ্রিয় বন্ধু আতিকের পরামর্শেই এবার হারুনের পদায়ন মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি চলছিল।
মজার বিষয় টা হলো আতিকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাকে প্রথমে বদলি ও পরে ওএসডি করা হলেও তার অন্যতম সহযোগী গণপূর্তের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন আর রশিদ এর বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোন প্রকার তদন্ত কমিটি গঠন বা তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এই হারুন আর রশিদ ই আতিকুল ইসলাম এর সহধর্মিণীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে কোটি কোটি টাকার কাজ দিয়ে বন্ধুত্বের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারের অধিকাংশ দপ্তরে সংস্কার চললেও গণপূর্তে পড়েনি এর ছিটেফোটা আঁচও।
তিনস্তর বিশিষ্ট সিন্ডিকেট চক্রের আওয়ামী বলয়ে এখনো চলছে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি। আতিক এর বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের অধীনে সক্রিয় অর্থপাচার সিন্ডিকেট। এমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এর নাম ভাংগিয়ে চলছে এই সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা। অথচ উপদেষ্টা আদিলুর রহমান এর ছিটেফোঁটাও জানেন না।
গোপন সুত্রে জানা যায়, বেস ক’মাস আগেই কথিত হাদি মামা (বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী সহ উপসহকারী প্রকৌশলীদের প্রাইজ পোস্টিং এর বিষয়ে কোটি কোটি টাকা নিচ্ছেন যদিও এসব বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনস্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব মো: নজরুল ইসলাম ঘোর আপত্তি করে আসছেন শুরু থেকেই) ও নামে উপদেষ্টার কোনো এক (কথিত শকুনি মামা) আত্মীয়কে চক্রান্তের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা এঁটেছিল এই সিন্ডিকেট। আর এর মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার (বর্তমানে ডিমোশনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন) ও তার সিন্ডিকেটের মূল মাস্টারমাইন্ড আতিক। (বর্তমানে ওএসডি)
