
ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে মূল বেতনের পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও পেনশনের হারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে এই হার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসবকেন্দ্রিক ব্যয় বিবেচনায় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এই প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, গ্রেডভেদে বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে— ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা, ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া—
-
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার পরিধি বাড়ানো
-
নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা
সুপারিশ করা হয়েছে।
বেতন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমার পর তা বিভিন্ন কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর প্রায় এক দশক ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় ছিলেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মপ্রেরণা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
