
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক লুৎফুল্লাহ মাজেদকে ঘিরে দলে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন নেওয়া, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, ব্যবসায়িক প্রতারণা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লুৎফুল্লাহ মাজেদ তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানি অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিচারাধীন, যার কার্যক্রম ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগেও তিনি একদিন একরাত ডিবি হেফাজতে ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসীর দাবি— বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি মনোনয়ন ‘ম্যানেজ’ করেছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা ‘ঢাকতে’ তিনি সম্প্রতি ঢাকায় একটি সাজানো আয়না ঘরের নাটক আয়োজন করেন। এলাকাবাসীর দাবি— নাটকটি ছিল শুধুই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশল। বিষয়টিও বিএনপির কেন্দ্রীয় তদন্তের আওতায় এসেছে।
আসামির রাজনৈতিক অতীত নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফর্ম কিনেছিলেন।
২০১০ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির ১৭ নম্বর সদস্য ছিলেন।বিএনপির ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ— তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো বিএনপিতে যোগদান করেননি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় পার্টির সক্রিয় সদস্য হয়ে কিভাবে তিনি বিএনপির উপজেলা কমিটি ও সংসদীয় মনোনয়ন লাভ করলেন?
কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়— ময়মনসিংহ-৮ ছাড়াও মাদারীপুর-১ ও ৩, কুষ্টিয়ার দুটি, ভোলার একটি এবং চট্টগ্রামের দুটি আসনসহ মোট প্রায় ৩০টি আসনে অভিযোগ জমা পড়েছে।
“যেখানে অভিযোগ এসেছে, সরেজমিন যাচাই-বাছাই চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের মনোনয়ন স্থগিত বা বাতিল করা হবে।”
