
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়েল এস্টেট খাতে নানা অনিয়ম, প্রতারণা আর গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগ বাড়তে থাকায় অবশেষে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা এক জরুরি নোটিশে জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে—৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার চুক্তিতে না যেতে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেয়া, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, শর্ত না মানা এবং গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল বাসির বলেন, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদন নিতে কোম্পানিগুলোর জাতীয় গৃহায়নের কাছে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই নিয়মই মানেনি। এজন্যই তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান—এখন কেউ যদি নিবন্ধন ছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নিবন্ধন পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তালিকায় থাকা ৩৬টি বাতিল কোম্পানি হলো—ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিস, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিস, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস, তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্ট ওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিস, বেস্ট ওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিস ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিস, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অফ বেঙ্গল প্রপার্টিস, বসুধা বিল্ডারস, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিস, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডারস অ্যান্ড ডেভেলপারস, এসএফএল, চন্ডিমাটি হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টস, হারপ হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ি, নব্যধারা হাউজিং, রিসমন্ট ডেভলপারস, পুবালি ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইস প্রপার্টিস, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাকপাই হাউজিং লিমিটেড।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—রাজউকের নিষেধাজ্ঞা, নিয়ম-কানুন আর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কোম্পানি এখনো নির্বিঘ্নে বিল্ডিং তুলে যাচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজউক কোথায়? তারা কি এ সব দেখেও দেখছে না? সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকলেও নজরদারির জায়গায় যেন এখনো বড় ধরনের শিথিলতা রয়ে গেছে।
এ অবস্থায় গ্রাহকদের সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কাই বেশি। ছাপোষা মানুষের জীবনভর জমিয়ে রাখা টাকা যেন ভুল হাতে পড়ে নষ্ট না হয়—এটাই এখন প্রধান সতর্কবার্তা।
