
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং ডানপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শনিবার(৮ আগস্ট) দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া উপস্থিত ছিলেন।
গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনে ৪৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দে লা এসপ্রিয়েলা জয়লাভ করেন। ৪৮ বছর বয়সী দে লা এসপ্রিয়েলা প্রথা ভেঙে রাজধানী বোগোতার পরিবর্তে কলম্বিয়ার অস্থিতিশীল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সংঘাতের ধকল দীর্ঘকাল ধরে এই শহরটিকেই সবচেয়ে বেশি সইতে হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে, কলম্বিয়ার নতুন প্রশাসনকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটন ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যা আমাদের যৌথ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
এই অর্থ পশ্চিমা গোলার্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যয় করা হবে। এছাড়া অর্থের একটি অংশ অর্থনীতি, বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদ খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের নেওয়া অন্যতম প্রথম পদক্ষেপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত জোট ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এ কলম্বিয়ার যোগদানের ঘোষণা।
নিজের অভিষেক ভাষণে তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানের পর আমি যেসব নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এ যোগদানের বিষয়টি। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে, কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান করতে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ জোরদার করতে সহায়তা করবে।
তার মতে, অন্যান্য দেশের মতোই কলম্বিয়াও একা কোনোভাবেই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী সংগঠনগুলোকে পরাজিত করতে সক্ষম নয়। দে লা এসপ্রিয়েলা আরও প্রতিশ্রুতি দেন, তার প্রশাসন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে।
তিনি বলেন, আমরা বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করব এবং নতুন নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার পূর্বসূরির বিপরীতে তিনি সম্ভাব্য সব উপায়ে দেশে কোকা চাষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ডানপন্থী এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, সম্ভাব্য সব উপায়ে অবৈধ কোকা চাষ নির্মূল করাটা বাস্তবে রূপ নেবে। এটি আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
