
ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর থেকে সেঁজুতির (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালু ও শোভা চন্দ্র দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গতকাল রোববার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের কাছে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই উপজেলা পরিষদের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যু এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সখিপুরজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’
এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
