
ডেস্ক নিউজ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে অস্থায়ী একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েনি প্রকল্পের মূল নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (তথ্য) ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ।
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।
অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, নথিপত্র, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তথ্য সংরক্ষণ বা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
প্রাথমিকভাবে স্প্লিট-টাইপ এসির ইনডোর ইউনিটের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের নির্ধারিত ফায়ার সেফটি প্রসিডিউর অনুসরণ করে একটি ইনভেস্টিগেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে হয়েছে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
