
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখে দ্বীপের ভেতরে কোনো স্থাপনায় হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় দ্বীপের আকাশে দুটি বিমান উড়তে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বিমান দুটির পরিচয় কিংবা বিস্ফোরণের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এছাড়া দক্ষিণ ইরানের বন্দর লেঙ্গেহ-এর অদূরে জলসীমায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটল। তবে এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে কিংবা হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে কেশম দ্বীপের কাছে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনী।
সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনী জানায়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন দুটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের দাবি অনুযায়ী, এই মডেলের মার্কিন ড্রোন জব্দের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইরানের হাতে এমকিউএম-১৭০ মডেলের চারটি ড্রোন রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখের কাছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনায় দ্বীপটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কাতার। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবিত কাঠামোয় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলমান সংঘাতে এর আগেও কেশম দ্বীপে সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। গত ৩০ অক্টোবর ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, দ্বীপটির কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
একই সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণ ও সম্ভাব্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তৎপরতার খবর প্রকাশ করে। তবে ওই সপ্তাহে পৃথক একটি ঘটনায় ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আরও এক দফা হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
